ঐতিহ্য, গৌরব ও সমৃদ্ধির দীপ্তিমান আলেখ্য: মান্দারপুর
কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইতিহাস, ভাষাতাত্ত্বিক ব্যাকরণ, বীরত্বগাথা ও লোককল্যাণের এক মহোত্তম দলিল
ভৌগোলিক পরিচয়, সীমানা ও নামকরণের ব্যাকরণ ও ইতিহাস
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার অন্তর্গত ৩ নম্বর বাদৈর ইউনিয়নের এক পরম গৌরবের নাম ‘মান্দারপুর’। ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব, ভৌগোলিক অবস্থান ও লোকগাথার এক অনন্য মিলনস্থলে অবস্থিত এই গ্রামটি তার নিজস্ব ইতিহাস ও সামাজিক স্বকীয়তায় ভাস্বর।
চতুর্দিক সীমানা ও ভৌগোলিক পরিবেষ্টন
মান্দারপুর গ্রামটির ভৌগোলিক অবস্থান প্রাকৃতিক ও প্রথাগত সীমানা দ্বারা অত্যন্ত চমৎকারভাবে ঘেরা:
উত্তর: ওদের খাল (ওরা খাল)
পূর্ব: ঐতিহ্যবাহী জিয়াবিল
দক্ষিণ: খেওড়া দিলির খাল
পশ্চিম: জামশেদপুর, পদুয়া ও যমুনা গ্রাম
নামকরণের ভাষাতাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস
বাংলা একাডেমি থেকে প্রাপ্ত ঐতিহাসিক নথি ও ব্রিটিশ আমলের দাপ্তরিক কাগজপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তৎকালীন সরকারি তালিকায় গ্রামটির নাম নিবন্ধিত ছিল ‘মাদারপুর’ হিসেবে। ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে ‘পুর’ শব্দটির উৎপত্তি ও অর্থ অত্যন্ত গভীর:
উৎপত্তিগত ব্যাখ্যা: মহাভারতের যুগে গ্রামের নারীরা ঘরের বাইরে জমিতে কাজ করার সময় মাঠের পাশে দেয়ালঘেরা উঁচু স্থানে শস্য ও প্রয়োজনীয় তেজসপত্র ভরে বা ‘পুরে’ রাখত—সেখান থেকেই ‘পুর’ শব্দের শাব্দিক উৎপত্তি ‘পুরে দেওয়া’, ‘ভরে দেওয়া’ বা ‘ঢুকিয়ে রাখা’। এছাড়া ‘পুর’ বলতে স্থান, গৃহ, গ্রাম কিংবা নগরকেও বোঝায়।
‘মাদা’ শব্দের অর্থ: ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘মাদা’ শব্দের অর্থ হলো ‘বহু পুরান’, যা নির্দেশ করে এটি এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন এক জনপদ।
তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রাচীন উৎপত্তিগত ব্যাখ্যার পাশাপাশি লোকমুখে বহুল প্রচলিত অপর মতটি হলো—‘মান্দার’ গাছ থেকে ‘মান্দারপুর’। একসময় এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় ও মেঠোপথের ধারে মান্দার গাছের প্রাচুর্য ছিল। সেই মান্দার গাছের ঘন বেষ্টনী ও জ্বালানি কাঠের সহজলভ্যতা থেকেই কালের পরিক্রমায় গ্রামটি ‘মান্দারপুর’ নামে সমধিক পরিচিতি লাভ করে।
ভৌগোলিকভাবে এখানে প্রাচীন ভূঁইয়া বাড়ি, সরকার বাড়ি ও খন্দকার বাড়ি সহ ঐতিহাসিক জমিদার ও সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোর শক্ত ভিত্তি বিদ্যমান। সময়ের বিবর্তনে মান্দার গাছ আজ বিলুপ্তির পথে হলেও,
বাংলা একাডেমির তথ্যে সমৃদ্ধ এই ইতিহাস, মান্দারপুর পুরান বাজারের প্রাণচাঞ্চল্য এবং গ্রামটির গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য আজও সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অম্লান বীরত্বগাথা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মান্দারপুর গ্রামের অবদান জাতীয় ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায়। এই গ্রামটি জন্ম দিয়েছে ৩৬ জন সূর্যসন্তান তথা বীর মুক্তিযোদ্ধা। মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁদের ত্যাগ ও বীরত্ব চিরস্মরণীয়। যুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে অনেকেই বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন এবং শহীদ হয়েছেন, আর কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজও জীবিত থেকে স্বাধীনতার আলোকবর্তিকা বহন করে চলেছেন। মান্দারপুরের এই মুক্তিকামী চেতনা গ্রামের তরুণ সমাজকে আজও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।
শিক্ষা বিপ্লব, প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ও কীর্তিমানদের প্রথম তালিকা
শিক্ষা ও মেধার চর্চায় মান্দারপুর সমগ্র অঞ্চলজুড়ে এক অগ্রগামী গ্রাম। গ্রামের দক্ষিণ দিগন্তে আলোর দিশারী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘মান্দারপুর হাই স্কুল’ ও সংলগ্ন প্রশস্ত খেলার মাঠ, যা ক্রীড়া ও সামাজিক বিকাশের মূল কেন্দ্র। এছাড়া গ্রামে রয়েছে ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখা বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন।
শিক্ষা প্রসারে অতীতে ২১ জন প্রাতঃস্মরণীয় শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে গেছেন। বিশেষ করে আব্দুল মালেক, তাঁর ছোট ভাই আব্দুল মান্নান মাষ্টার এবং অতীতে এন্ট্রেন্স পাস করা সুনীল বাবুর মতো উদার মানসিকতার মানুষেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের হাতেখড়ি দিতেন। এই সমৃদ্ধ শিক্ষার ভিত্তির ওপর ভর করেই আজ মান্দারপুরে প্রায় ২০ জন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা ও ২৫ জনেরও বেশি চিকিৎসক (ডাক্তার) গড়ে উঠেছেন, যারা দেশ-বিদেশে সুনামের সাথে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
মান্দারপুর গ্রামের প্রথম কীর্তিমান ব্যক্তিবর্গ
গ্রামে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী গুণীজনদের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
অর্জিত গৌরব / প্রথম কীর্তি
জনাব আলাব উদ্দীন মুন্সী,প্রথম পঞ্চায়েত প্রধান (১৯১৩-১৯১৯), ফেকু মিয়া সরকার
প্রথম বৃহত্তর বাদের ইউনিয়ন বোর্ড প্রেসিডেন্ট,মোঃ সিরাজুল,হক (হান্দু/খান্দু মাষ্টার)
প্রথম শিক্ষক (প্রাথমিক),আব্দুল মালেক মিয়া
প্রথম স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট), মোঃ আব্দুল মান্নান মাষ্টারপ্রথম প্রধান শিক্ষক ও প্রথম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, বাদের ইউনিয়ন পরিষদ (১৯৭৬),ডা. আব্দুল কাদের (এমবিবিএস),প্রথম চিকিৎসক (ডাক্তার),মোঃ হাবিবুর রহমান (জলফু মাষ্টার)প্রথম জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক,মোঃ আব্দুল হান্নান (তুতা মিয়া) প্রথম কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট (১৯৭৩ সন),প্রফেসর মোঃ মতিউর রহমান সরকার,প্রথম অধ্যক্ষ, সরকারি কলেজ, প্রকৌশলী মোঃ মাহফুজুর রহমান সরকার, প্রথম প্রকৌশলী (বুয়েট), প্রফেসর ড. আব্দুল মালেক ভূঁইয় প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক; সাবেক সভাপতি, প্রাণীবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,নাজমা বেগম, প্রথম বি.সি.এস (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব (অব.),ড. আইয়ুবুর রহমানপ্রথম কৃষিবিদ, মেজর শফিকুর রহমান (কাজল) প্রথম কমিশনপ্রাপ্ত সেনাওয়ালা/আর্মি অফিসার, লায়ন মোঃ রফিকুল ইসলাম ভূঞা (জসিম), প্রথম সিআইপি (CIP), প্রফেসর ড. বেগম রোকসানা মিলি,প্রথম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, মোঃ ইয়াছিন মিয়া (এফসিএ প্রথম চার্টার্ড একাউন্টেন্ট (FCA), বেগম ফারহানা ভূঁইয়া মুক্তা,প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ডা. সরকার কামরুন জাহান ঝিনুক প্রথম জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত (সংগীত),মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রথম ব্যারিস্টার, রেবেকা জান্নাতপ্রথম ফার্মাসিস্ট, ইসরাত জাহান ইমা প্রথম মহিলা হাফেজা, নারী শিক্ষা ও রত্নগর্ভা মায়েদের অবদান। মান্দারপুর কেবল পুরুষদের কীর্তিতেই নয়, নারী শিক্ষা ও প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে নারীদের অংশগ্রহণে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
নারী শিক্ষার আলোকবর্তিকা: মিসেস নাজমা বেগম (যুগ্ম সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা) গ্রামে নারী শিক্ষার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছেন।
রত্নগর্ভা হিসেবে প্রশংসিত মা:
মরহুমা লুৎফুর নেছা (স্বামী: মৃত হাজী আব্দুল লতিফ) — ড. অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সরকার সাহেবের রত্নগর্ভা আম্মা।
মিসেস মাহফুজা অলি (স্বামী: আনোয়ার মোঃ অলিউল্লাহ ভূঁইয়া)।
ধর্মীয় সংহতি, সামাজিক সংগঠন ও সফল সংগঠকবৃন্দ
মান্দারপুর গ্রামে প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষের বসবাস। প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত এ গ্রামে আলেম-ওলামাদের পাশাপাশি এক হিন্দু পরিবার পরম সুখে, শান্তিতে ও ভাতৃত্বের বন্ধনে সহাবস্থান করছে।
ধর্মীয় অবকাঠামো: গ্রামে রয়েছে ১টি ঐতিহ্যবাহী প্রধান জামে মসজিদ, ২০টিরও অধিক দৃষ্টিনন্দন পাড়াভিত্তিক পাঞ্জেগানা মসজিদ ও মাদ্রাসা। জুম্মার দিনে সবাই এক জামাতে একত্রিত হয় এবং গ্রামের দক্ষিণ দিকের সুবিশাল ঈদগাহ ময়দানে দু’টি ঈদের সালাত আদায় করে।
সামাজিক সংগঠন: গ্রামে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি সক্রিয় সামাজিক সংগঠন রয়েছে, যা যুবসমাজকে সমাজসেবা ও প্রগতিতে উদ্বুদ্ধ রাখে।
সফল সংগঠকবৃন্দ ও সমাজপতিদের ভূমিকা
১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে এবং পরবর্তী সময়ে সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রেখে গেছেন:
জনাব হাজী চাঁদ মিয়া মেম্বার
জনাব হাজী সোনা মিয়া মেম্বার
জনাব আব্দুল আজিজ মেম্বার
জনাব মনজুর আলী সরদার
জনাব সিরাজুল হক মাষ্টার (খান্দু মাষ্টার)
জনাব হাজী একরাম হোসেন (মতু সরদার)
বিশিষ্ট সংগঠকগণ:
মরহুম শাহ আলম সরকার (সরকার বাড়ি): ৭০-এর দশকের পর সংগঠক হিসেবে বিরল প্রশংসা লাভ করেন। তিনি ক্রীড়া ক্ষেত্রে রেফারি, সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, শালিস-বিচার এবং গ্রাম্য আদালতে বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য ও রায় প্রদানের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে অনন্য ভূমিকা রাখেন।
এম. এ. কাইয়ুম সরকার: সাধারণ সম্পাদক, কসবা উপজেলা সমিতি ঢাকা; যিনি জাতীয় রাজনীতি ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছেন।
এম. মারুফ হাসান: সাবেক চেয়ারম্যান, বাদৈর ইউনিয়ন পরিষদ। তিনি ঢাকাস্থ কসবা সমিতি, বৃহত্তর উত্তরাস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কল্যাণ সমিতি, মান্দারপুর ছাত্র সংসদ এবং মান্দারপুর সমিতি ঢাকার সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত.
মোঃ ছাদেক আহমেদ ভূঁইয়া (রিপন): মান্দারপুর ছাত্র সংসদ, মান্দারপুর সমিতি ঢাকা, উত্তরাস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কল্যাণ সমিতি, ঢাকাস্থ কসবা সমিতি এবং ইউএসএ-ভিত্তিক ‘বাঙালি পাঠশালা স্কুল অফ লিডারশিপ’ এর উপদেষ্টা হিসেবে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন।
৬. লোককল্যাণ, দানবীর ব্যক্তিত্ব ও গ্রামীণ চিকিৎসা সেবা
মান্দারপুরের সমৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে এর দানবীর পরিবারবর্গ ও সমাজসেবকদের ঐতিহাসিক অবদান।
ঐতিহাসিক দানবীর পরিবারবর্গ: হাজী চাঁন মিয়া মেম্বারের পরিবারবর্গ, শ্রী হারাধন কান্তি দাস ও সুনীল কান্তি দাসের পরিবারবর্গ গ্রামের প্রাথমিক সামাজিক ভিত্তিমূল গড়ে তুলেছিলেন।
বর্তমান দানবীর ও সিআইপি ব্যক্তিত্ব: সেই জনকল্যাণমুখী ধারাকে বর্তমানে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন প্রখ্যাত সমাজসেবক লায়ন মোঃ রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া সিআইপি (জসিম), আলাউদ্দিন সরকার এবং মো নূরে আলম শান্তনুর সহ আরও অনেকে। তাঁরা মান্দারপুরসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের গরিব ও দুস্থ মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ও পল্লী চিকিৎসক
মান্দারপুরের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় যাদের নাম গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়:
ডাক্তার শ্রী হারাধন কান্তি দাস
ডাক্তার নানু (আব্দুল মান্নান)মাস্টার
ডাক্তার হামিদ মাস্টার
ডাক্তার মদন
ভাইস চেয়ারম্যান
ডাক্তার আলী আহমেদ
ডাক্তার সওদাগর জমতদ্দার
ডাক্তার ইউসুফ (শিশু ডাক্তার)
গ্রামীণ মহিলা চিকিৎসক (ডাক্তার চাচী দাদী): ‘ডাক্তার দাদী’ হিসেবে পরিচিত মোছাম্মদ দুর্দানা বেগম (স্বামী আবদুল জাব্বার পচু মিয়া পূর্ব পাড়া ভূইয়া বাড়ি) সহ বহু নারী, যাঁরা ভেষজ চিকিৎসা, সাপের কামড়ের প্রথাগত চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁক সেবায় গ্রামবাসীর আস্থার প্রতীক ছিলেন।
খেলাধুলা যাদের পারদর্শিতা চোখে পড়েছিল তৎকালীন,
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সন্তোষ কাকা, সুনীল মাস্টার, ইউনুস ভাই,, বাবরুভাইসা, মিজান ভাই, শাহ আলম ভাই, ফুতু ভাই, হেলাল ভাই জীবন ভাই,অবিদ ভাই,মুখলেস মেম্বার ভাই, ছোট ভাই শফিক ভাই মিজান ভাই, রহিম কাকা, জামাল ভাই (সাকির পাড়া) জামাল ভাই পূর্বপাড়া, আনু কাকা , নুরু কাকা, মাতব ভাই, কুদ্দুস ভাই, ইতালি প্রবাসী বাবুল ভাই,এলুভাই, হাবি ভাই, মিলন ভাই,ঈদ্দু ভাই, ফয়েজ ভাই মজিবুর কাকা, আব্দুল আজিজ, ইকবাল কাকা, শাহজাদা ভাই, রতন ভাই মিন্টু ভাই, সুবাস কাকা,কুদ্দুস ব্রিগেডিয়ার, সরকার বাড়ির মতিন কাকা, দেলোয়ার ভাই, প্রমুখের নাম এবং চেহারা মনের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে।
মপ্রাকৃতিক শোভা, আঞ্চলিক স্থান ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকেও মান্দারপুর অপরূপ। বর্ষাকালে কানায় কানায় পূর্ণ হওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘জিয়াবিল’ গ্রামের রূপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আষাঢ়-শ্রাবণে জিয়াবিলের থৈ থৈ পানির ঢেউ ও শীতল হাওয়া দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন।
ঐতিহাসিক ও আঞ্চলিক পরিচিত স্থানসমূহ (Local Landmarks)
গ্রামে বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী ও পরিচিত আঞ্চলিক স্থান রয়েছে:
বড় ভাঙ্গা,,চিড়িন্দা,উদের খাল, তাল গাছের ঘাতা,ডুব,ধলি পানি,জোরপুকুর পার,কুইয়ানী,ইমাম বাড়ী,
বাটানি পুকুর, কৈখালী পুকুর, কমলাপুর,,মরিচা বাড়িয়া পুকুর, লাইটটা ভাঙ্গা।। কোরা হাল।।।
ছাড়াবাড়ি, পুরাতন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থান, এইসব উল্লেখযোগ্য স্থান সহ মান্দারপুর পুরান বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এলাকা (সন্ধ্যা কালীন চায়ের দোকানের আড্ডা ও প্রাণবন্ত পরিবেশের কেন্দ্রস্থল)।
যদিও ধানি জমি রক্ষা ও পুকুর পুনখননের ফলে জিয়াবিলের ভৌগোলিক রূপে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, তবুও মান্দারপুরের প্রথাগত মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও সামাজিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
বাংলা একাডেমির দাপ্তরিক নথি, ভাষাতাত্ত্বিক তাৎপর্য এবং শতবছরের ইতিহাসে সমৃদ্ধ ‘মান্দারপুর’ কেবল কসবা বা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি সাধারণ গ্রাম নয়; এটি প্রাচীনত্ব, ৩৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বগাথা, বিসিএস ক্যাডার ও চিকিৎসকদের প্রজ্ঞা, প্রাতঃস্মরণীয় শিক্ষক, উদ্যোগী সংগঠক এবং মহতি দানবীর ব্যক্তিবর্গের এক অনুপম মিলনক্ষেত্র। শিক্ষা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবসেবার এই ধারা মান্দারপুরকে চিরন্তন এক মহোত্তম আদর্শ গ্রামে রূপ দিয়েছে।
তথ্য সংগ্রহে ও লিখা:
মোঃ ছাদেক আহমেদ ভুইয়া (রিপন)
মো সহিদুল হক চৌধুরী (সোহেল)
ছবি সংগ্রহে :
মো ইসহাক সরকার ( মানবতার পথে পেইজ)
মো আমিনুল ইসলাম (প্রিন্স) এবং
মান্দার পুর সমিতির স্মরণিকা ২০১৭, ২০২৫ ।
https://share.gemini.google/fW0uPIlJOAeT

