দেলী একটি প্রাচীন জনপদ। গ্রামের নামকরণের ইতিহাস নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক মত প্রচলিত রয়েছে। পুরোনো নথিপত্র ও শব্দের ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করলে দেলী নামটির উৎপত্তি সম্পর্কে একটি গ্রহণযোগ্য ধারণা পাওয়া যায়।
১৯১০-১২ সালের দিকে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত গ্রামের তালিকায় দেলী গ্রামের নাম ‘দেবী’ (Debi) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে গ্রামটি ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ায় ‘দেবী’ থেকে ‘দেলী’ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করা কঠিন। ফলে সরকারি নথিতে ব্যবহৃত ‘দেবী’ নামটি প্রকৃত নামের পরিবর্তিত বা ভুল রূপ হতে পারে বলে ধারণা করা যায়।
‘দেলী’ শব্দের অর্থ নিয়েও বিভিন্ন মত রয়েছে। কোথাও এর অর্থ সিঁড়ি, শাখা-প্রশাখা কিংবা গোবরের জ্বালানি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব শব্দার্থের সঙ্গে গ্রামের নামকরণের সরাসরি সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া কঠিন।
আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, মাটির টুকরো বা দলাকে ‘ঢেলা’ বলা হয়। অতীতে দেলী গ্রামের চারপাশের বিস্তীর্ণ জমিতে মাটির বড় বড় ঢেলা ছিল। পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষকে দেলী গ্রামে আসার সময় এসব জমির ঢেলা ডিঙিয়ে চলাচল করতে হতো। এ কারণে আশপাশের মানুষ ধীরে ধীরে এই জনপদকে ‘দেলী’ নামে অভিহিত করতে শুরু করে বলে একটি মত প্রচলিত আছে।
তবে স্থানীয় ইতিহাস ও শব্দের ব্যুৎপত্তির দিক থেকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত হলো, গ্রামের কোনো এক আদি বাসিন্দা বারান্দা ও সিঁড়িসহ একটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। সেই বাড়ির সিঁড়ি বা প্রবেশপথের বৈশিষ্ট্য থেকেই গ্রামের নামের উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে। সংস্কৃত ‘দেহলি’ শব্দের অর্থ সিঁড়ি বা প্রবেশদ্বার। কালক্রমে ‘দেহলি’ শব্দটি স্থানীয় উচ্চারণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে ‘দেলী’ নামে রূপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
অতএব, বিভিন্ন মতের মধ্যে সংস্কৃত ‘দেহলি’ থেকে ‘দেলী’ নামের উৎপত্তির ধারণাটিই তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তবে এ বিষয়ে আরও পুরোনো দলিল, ভূমি রেকর্ড ও স্থানীয় ঐতিহাসিক তথ্য অনুসন্ধান করা গেলে দেলী গ্রামের নামকরণের প্রকৃত ইতিহাস আরও সুস্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হবে।
তথ্য সংগ্রহে:
বাংলা একাডেমি।
মো. কাউছার, দেলী গ্রাম।

